"আপু, ড্রয়ারে যে টিউবটা রাখো — ওইটা কোথায়? বিয়ের হলুদ পরশু।" ছোট বোনের প্রশ্নটা রাত পৌনে বারোটায়, রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে।
টিউবটার একটা নির্দিষ্ট জায়গা আছে। সিঙ্কের ওপরের তাকে, লবণের কৌটা আর চায়ের ছাঁকনির মাঝখানে, চিনির বয়ামের আড়ালে। ওই তাকে হাত পৌঁছায় শুধু সুরাইয়ার। সারাদিন ঘরের কোথাও একা হওয়ার উপায় নেই — বসার ঘরে টিভি, বারান্দায় কাপড়, বাথরুমে লাইন। রান্নাঘরটা খালি হয় সবাই ঘুমিয়ে যাওয়ার পর।
এগারোটা চল্লিশে exhaust fan-এর ঘটঘট শব্দটাই সবচেয়ে জোরে শোনা যায়। ফ্রিজের গা কাঁপে থেমে থেমে। রাতের তরকারির ফোড়নের গন্ধ তখনো ঝুলে আছে পর্দায়। সুরাইয়া টুলটা টেনে নেয়, তাক থেকে নামায় JAPAN Sakura Hair Removal Cream 50g — টিউবের গায়ে গোলাপি লেখাটা রান্নাঘরের টিউবলাইটে ঝকঝক করে।
মুখটা খুললে ক্রিমটা বেরোয় ঘন, সাদা, ঠান্ডা — টাইলসের ঠান্ডার চেয়েও একটু বেশি। হাতে ঘষার দরকার হয় না, শুধু বসিয়ে দিতে হয় skin-এর ওপর, পুরু করে। স্প্যাচুলা চালানোর সময় একটা মৃদু ঘষটানো শব্দ হয়। ঘ্রাণটা নামের মতোই — হালকা, ফুলের দিকে ঘেঁষা। কয়েক মিনিট পর ভেজা নরম কাপড় দিয়ে মোছার সময় হাতটা মসৃণ ঠেকে, তারপর কল ছেড়ে স্টিলের বেসিনে পানির শব্দ — ওইটুকুই।
টিউবটা এখন আগের মতো ভরাট নেই। তলার দিক থেকে গুটিয়ে গুটিয়ে ওপরে আনা, মাঝখানে ভাঁজের দাগ। কাল সকালে ওটা তাকে ফিরবে না — ফিরবে ড্রয়ারে, কাঁচি আর চুলের ব্যান্ডের পাশে, কারণ পরশু ছোট বোনের হলুদ আর ব্লাউজের হাতা এবার ছোট।
হলুদের দিন দুই বোনের হাত পাশাপাশি, মেহেদির নকশার নিচে skin একরকম মসৃণ। টিউবটা ততক্ষণে বাড়ির আরেকজনের ব্যাগে।
আপনার রান্নাঘরের তাকেও একটা জায়গা খালি আছে — এই টিউবটা রেখে দেখুন।
আপনার মতামত অন্য ক্রেতাদের সাহায্য করবে