"আপু, তুমি তো চার্জারের তার কিনতে ঢুকেছিলে।" কথাটা দোকানের ভেতর একটু জোরেই বলে ফেলেছিলাম। নুসরাত শুনলই না। ফ্যানের হাওয়ায় ঝুলন্ত key-ring গুলো টুংটাং করছিল, আর ও দাঁড়িয়ে ছিল কাচের শেলফটার সামনে, একদম চুপ।
তিনবার ডাকলাম। ও শুধু কাচের ওপর আঙুল ঠেকিয়ে বলল, "ভাই, ওটা একটু নামান তো।" দোকানের ছেলেটা টুল টেনে ওপরের তাক থেকে যেটা নামাল, সেটা আমি প্রথমে ভালো করে দেখতেই পাইনি — এত ছোট।
Heart Ring Box. হাতের তালুর চেয়েও ছোট size, হার্টের আকারে গড়া একটা gift box। দোকানদার packaging খুলে ওর হাতে দিল। নুসরাত সেটা নিয়ে দোকানের দরজার আলোর দিকে সরে গেল, যেন ভালো করে colour টা দেখতে হবে।
বাইরেটা মখমলের মতো, আঙুল বোলালে একদিকে মসৃণ আর উল্টো দিকে একটু খসখসে। শীতাতপের ঘরে জিনিসটা ঠান্ডা হয়ে ছিল, হাতে নিতেই টের পাওয়া যায়। ওজন প্রায় নেই বললেই চলে। ঢাকনাটা তুলতে গেলে ছোট্ট একটা "ক্লিক" শব্দ হয় — ভেতরে সাদা সাটিনের খাঁজ, আঙটি বসানোর জন্য সরু একটা ফাঁক। নতুন জিনিসের সেই হালকা গন্ধটা ছিল। নুসরাত তিনবার ঢাকনাটা খুলল আর বন্ধ করল, ওই শব্দটার জন্যই।
এর এগারো দিন পর মায়ের জন্মদিন ছিল। মায়ের বিয়ের আঙটিটা এত বছর ধরে পান-সুপারির কৌটার ভেতর টিস্যুতে মোড়ানো থাকত। রাতে খাওয়ার পর নুসরাত টেবিলের ওপর কিছু একটা রাখল, ঢাকনা বন্ধ। মা খুললেন। তারপর বন্ধ করলেন। তারপর আবার খুললেন।
মা কিছু বলেননি সে রাতে। শুধু পরদিন সকালে দেখলাম কৌটাটা আলমারির পেছনে চলে গেছে, আর box টা আয়নার তাকের ঠিক মাঝখানে বসানো।
আপনার ঘরেও এমন একজন আছেন, যাঁর সবচেয়ে দামি ছোট জিনিসটা এখনও টিস্যুতে মোড়ানো — Heart Ring Box একবার হাতে নিয়ে দেখুন।
আপনার মতামত অন্য ক্রেতাদের সাহায্য করবে